শনিবার, ২২ Jun ২০২৪, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

আয়েশার রিফাতের আগে নয়নের সঙ্গে বিয়ে হয়

আয়েশার রিফাতের আগে নয়নের সঙ্গে বিয়ে হয়

বরগুনায় স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের সঙ্গে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বিয়ে হয়েছিল।

তাদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাজী মো. আনিসুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি বরগুনা পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার। বরগুনা পৌরসভার ডিকেপি রোডের কেজি স্কুল নামক স্ট্যান্ডে তার কাজী অফিস।

জানা গেছে, নয়ন বন্ড ও আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বিয়ের প্রথম স্বাক্ষী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় আসামি বাকিবুল হাসান রিফাত ওরফে রিফাত ফরাজি। গত বছরের ১৫ অক্টোবর আসরের নামাজের পর তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের দেনমোহর হয়েছিল পাঁচ লাখ টাকা। তবে দেনমোহরের কোনো নগদ পরিশোধ ছিল না।

কাজী মো. আনিসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘বিয়ে করার জন্য নয়ন ও আয়েশাসহ ১৫ থেকে ২০ জন লোক আসে আমার অফিসে। এ সময় নয়ন ও আয়েশা তাদের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার প্রমাণস্বরূপ এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট নিয়ে আসে। এরপর আমি মেয়ের বাবার সঙ্গে কথা জানতে চাইলে তারা বলে, “মেয়ের বাবা আসবে না, আপনি মেয়ের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন।” এরপর মিন্নির মা পরিচয়ে একজন আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।’

কাজী আরও বলেন, ‘তিনি আমাকে বলেন, বিয়ের বিষয়টি আমরা তো জানি। আয়েশার বাবা বিয়েটা এখন মানবে না। আপনি বিয়ে সম্পন্ন করেন। বিয়ের কিছুদিন পর ঠিকই মেনে নেবেন। এরপর আমি পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে নয়ন ও আয়েশার বিয়ে সম্পন্ন করি। এ বিয়ের উকিল ছিলেন শাওন নামের একজন। শাওন ডিকেপি রোডের মো. জালাল আহমেদের ছেলে।’

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, দুই মাস আগে রিফাতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। আর কারও সঙ্গে কখনো তার বিয়ে হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমার বিয়ে হয়েছে একমাত্র রিফাত শরীফের সঙ্গে। এ ছাড়া আর কখনো কারও সঙ্গে বিয়ে হয়নি। যেহেতু বিয়েই হয়নি, ডিভোর্স হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। রিফাতই আমার স্বামী এবং এটাই সত্য। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করেন স্থানীয় নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে বরগুনা সদর হাসপাতাল ও শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে রিফাতের বাবা বুধবার রাতেই বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877