সোমবার, ১৭ Jun ২০২৪, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

ফখরুলের আসনে ভোট আজ

স্বদেশ ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেওয়ায় শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনে আজ সোমবার ভোট। আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে প্রশাসন। নির্বাচনী এলাকায় ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি এবং শিথিল করা হয়েছে যান চলাচল। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে মোতায়েন করা হয়েছে ১৫ প্লাটুন বিজিবি।

এবারই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন বগুড়া সদর আসনের ভোটাররা। নির্বাচনে সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও লড়াইয়ের আভাস মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই। তবে জোটভুক্ত দল হিসেবে জাতীয় পার্টিও লড়াইয়ের একটি অংশে থাকছে। বরাবরই নিজেদের দখলে থাকা আসনটি রক্ষা বিএনপির জন্য যেমন প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনি জোটকে বাদ দিয়ে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ায় আওয়ামী লীগের জন্যও এটি একটি বড় পরীক্ষা। তাই প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বীই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

সাধারণ ভোটাররা অবশ্য এ নির্বাচন নিয়ে প্রথমে খুব একটা আগ্রহ না দেখালেও শেষ সময়ে এসে বলছেন-ভোট দেবেন দেখেশুনে। ধানের শীষের প্রার্থী জিএম সিরাজ এর আগে বগুড়ার অন্য একটি আসন থেকে দলের মনোনয়নে টানা তিন দফা সাংসদ নির্বাচিত হলেও নৌকার টি জামান নিকেতা এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙল), মুসলিম লীগের রফিকুল ইসলাম (হারিকেন), বাংলাদেশের কংগ্রেসের মুনসুর রহমান (ডাব) স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ কবির আহেম্মদ মিঠু (ট্রাক মার্কা) ও মিনহাজ মণ্ডল (আপেল) প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিঠু গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে ইভিএমে প্রার্থী তালিকায় তার নাম ও প্রতীক থাকবে।

বগুড়া-৬ (সদর) জিয়া পরিবারের জন্য ‘সংরক্ষিত’ আসন হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৯ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আসনটি একচ্ছত্র দখলে ছিল বিএনপির। এর মধ্যে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছিলেন সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত মুজিবর রহমান। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সাল ছাড়াও বাতিল হওয়া ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে টানা চার দফা বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

দুর্গ বলে পরিচিত এ আসনে দলটির নেতাকর্মীরাই এখন বলছেন-দুই দফা সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতা আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হতাশা জেঁকে বসেছে বিএনপিতে। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগার থেকে কবে মুক্তি পাবেন, এ বিষয়টিও অনিশ্চিত। তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানেরও দেশে ফেরা নিশ্চিত নয়। এ অবস্থায় দলের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হচ্ছে তা অস্পষ্ট। শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যেও সমন্বয় নেই। এসব নিয়ে তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। তবে দলের শৃঙ্খলার কথা চিন্তা করে কেউ-ই সরাসরি মুখ খুলছেন না। শুধু তাই নয়, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে যারা নানা হুশিয়ারি দিতেন, তারাও শেষমেষ চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের মৃত্যুর পর কিছুটা শূন্যতা সৃষ্টি হয় দলে। শেষ পর্যন্ত সংকট কাটিয়ে নির্বাচনমুখী হয়ে মাঠে থাকেন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, সাধারণ ভোটাদের মন জয় করে ভোটের মাঠে জিততে চাই। তবে এই উপনির্বাচনে বগুড়ার অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দল জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। শুরু থেকেই দলটির নেতারা নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। বগুড়া পৌরসভার ১৯ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামায়াতের। ৮, ১৩ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডেও দলটির ভোটার সংখ্যা অনেক। নাম প্রকাশ না করে দলটির নেতারা ইঙ্গিত দেন যে, জামায়াতকে অবমূল্যায়নের খেসারত দিতে হতে পারে বিএনপিকে। বিএনপির প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজ অবশ্য এটিকে তেমন ফ্যাক্টর মনে করছেন না।

তিনি বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতি জায়েজ করতে সরকার ভোট সুষ্ঠু করবে বলে আশা করছি। এ সিটটি তাদের দরকার নেই। তাই স্বচ্ছ ভোট করে প্রচার চালানো হবে-ইভিএমে ভোট করেও বিএনপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।’ নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে জোরালো কণ্ঠে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের নামে থাকা মামলা প্রত্যাহারসহ বগুড়ার উন্নয়নে কাজ করে যাবেন বলে জানান সিরাজ।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী টি জামান নিকেতা বলেন, ‘বগুড়ার উন্নয়নের জন্য নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগের প্রধান ইস্যু বগুড়ার উন্নয়ন। আমরা চাই বগুড়াবাসীর উন্নয়ন। তাই আমাদের কথা হলো-নৌকা মার্কায় ভোট দিন, উন্নয়ন বুঝে নিন।’

সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বগুড়া-৬ আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মির্জা ফখরুল ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে মহাজোট প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমরকে হারান। তবে মির্জা ফখরুল শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। নিয়মানুযায়ী উপনির্বাচনের আয়োজন করেছে ইসি। আসনটিতে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ জন। ১৪১টি কেন্দ্রের ৯৬৫টি কক্ষে ইভিএমে ভোট দেবেন তারা। এ বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবদুল মালেক বলেন, ‘বিজিবি সদস্যরা নির্বাচন ও নির্বাচনপরবর্তী সময় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করবেন।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877