শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০২:০৭ অপরাহ্ন

ছেলে ‘সেজে’ মৃত ২ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তুলে ভাগবাটোয়ারা টাকার

ছেলে ‘সেজে’ মৃত ২ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তুলে ভাগবাটোয়ারা টাকার

সন্তান ‘সেজে’ দীর্ঘদিন ধরে মৃত দুই মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ভোগ করছেন দুই প্রতারক। অভিযোগ আছেÑ তাদের এই জাল-জালিয়াতিতে সহযোগিতা করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতারা। উত্তোলিত ভাতার টাকা প্রতিমাসেই ভাগাভাগি হয়েছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের এ দুই ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত করছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।

জানা যায়, উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামের পরিমল পাল মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দেশ স্বাধীনের কয়েক বছর পর তিনি ও তার দুই ভাই ভারতে চলে যান। সেখানেই মারা যান পরিমল পাল। কিন্তু একই গ্রামের মৃত সাধন পালের ছেলে সন্তোষ পাল মুক্তিযোদ্ধা পরিমল পালের ছেলে সেজে কয়েক বছর ধরে ভাতা উত্তোলন করছেন। সন্তোষ পালের মা রেনু বালা পাল জীবিত থাকলেও উত্তরাধিকার সনদপত্রে তার মাকে মৃত দেখানো হয়েছে। কারণ স্ত্রী জীবিত থাকলে সন্তানরা ভাতা পায় না। সন্তোষ পালকে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলনে সহযোগিতা করেছেন সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় এলাকার সলফ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা গেদা আলীর ছেলে ইসমাইল আলী গত ১৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন। ভাতা উত্তোলনকারী সন্তোষ পালের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সন্তোষ পাল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নয় বলে জানিয়েছেন তারই আপন চাচা অনিল পাল। তিনি বলেন, তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন সাধন পাল। তবে সাধন পাল বা তাদের পরিবারের কেউ মুক্তিযোদ্ধা নন। এদিকে উপজেলার কান্দিগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা যতিন্দ্র কুমার অবিবাহিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। অথচ ছেলে সেজে তার ভাতা উত্তোলন করছেন তার ভাই বিধুভূষণ দাসের ছেলে নান্টু দাস। নান্টুকে এসব কাজে সহায়তা করে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন একই গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রাধাকান্ত তালুকদার।

নান্টু দাসের ভাতা প্রদান বন্ধের জন্য গত বছরের ৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির। ভাতা উত্তোলনকারী নান্টু কান্ত দাস বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা যতিন্দ্র কুমার দাসের পালিত (পোষ্য) ছেলে। মুক্তিযোদ্ধা রাধাকান্ত তালুকদার আমার কাগজপত্র ঠিক ও ভাতা উত্তোলন করে দিয়েছেন। আমি ভাতার তিন ভাগের মাত্র একভাগ পেয়েছি। দুই ভাগ নিয়েছেন রাধাকান্ত তালুকদার ও অঞ্জন কুমার দাস। তবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রাধাকান্ত তালুকদার ও মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন কুমার দাস দাবি করেছেন এসব অভিযোগ মিথ্যা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সফিউল্লাহ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পরই দুজনের ভাতা প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমাজসেবা অফিসার বিষয়টি তদন্ত করছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ আদায়সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877