শনিবার, ১৩ Jul ২০২৪, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

জুলিদের ঘরে নুসরাতের কান্না

জুলিদের ঘরে নুসরাতের কান্না

সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের মৃত্যু এখনো দগদগে ঘা হয়ে আছে বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে। এর মধ্যেই এবার রাজবাড়ীতে ঘটল একই কাণ্ড। জুলি নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বোরকা পরিহিত দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতও বোরকা পরা দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনেই পুড়ে মারা গিয়েছিল। ফেনীর নুসরাতদের পরিবারের সেই কান্না এসে এখন আছড়ে পড়েছে রাজবাড়ী সদরের খোলাবাড়িয়া গ্রামে, জুলিদের বাড়িতে।

এ ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে ইতোমধ্যেই থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী জুলি খানখানাপুর তমিজদ্দিন খান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার বাবা মো. ফজলুর রহমানের অভিযোগ, তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল গ্রামের কিছু মাদককারবারি। তা দিতে অস্বীকার করায় এ ভয়াবহ কা- ঘটানো হয়েছে।

তিনি বলেন, গত পহেলা বৈশাখ থেকে তার মেয়ের স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায় সময়ই এলাকার কতিপয় মাদককারবারি তাকে উত্ত্যক্ত করত এবং তাকে বলত, বাবাকে যেন জানায়, তারা দুই লাখ টাকা চায়। ওই টাকা তারা প্রতিবেশী শিল্পী বেগমের কাছে জমা রাখার কথা বলে। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করায় জুলিকে তারা আরও বেশি উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেয়।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার দুপুরে বোরকা পরা দুই দুর্বৃত্ত জুলিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার ছোট বোন ও মায়ের চিৎকার শুনে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার নায়ক ভাণ্ডারিয়া গ্রামের মেহেরুল্লার পুত্র রাজু, অভিযোগ ফজলুর রহমানের। এদিকে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি পিপিএম ও রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জুলিদের বাড়িতে যান।

ওসি জানান, এ ঘটনায় গতকাল (শনিবার) দুপুরেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে চারজনকে। তাদের একজন প্রতিবেশী শিল্পী বেগম, তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী জাহাঙ্গীর। অন্য তিনজন অজ্ঞাত। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। জুলির মা নাসিমা বেগম জানান, ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে তার দুই মেয়ে বসে জাম খাচ্ছিল। তিনি ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় ছোট মেয়ের চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে। ছোট মেয়েটি জানায়, বোরকা পরা দুজন লোক বড় মেয়ে জুলিকে তুলে নিয়ে গেছে। এর পর আমিও চিৎকার করতে থাকি। এর পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঘরের পেছনের পাটক্ষেত থেকে জুলিকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

জুলির বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. সোহেল ব্যাপারী জানান, গত শুক্রবার রাতে নিরাপত্তাহীনতায় থেকে এ ঘটনা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। এর কিছুক্ষণ পর রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার পুলিশ পাঠিয়ে থানায় ডেকে নিয়ে বিস্তারিত জেনে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।

আহত জুলি জানায়, পাশের গ্রামের রাজু নামের এক ছেলে তাকে পছন্দ করত। এ কথা প্রতিবেশী শিল্পী বেগম জানতেন। আর এটাকে কেন্দ্র করেই দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি জুলি ওর পরিবারকে জানানোর জেরে গত বৃহস্পতিবার শিল্পী বেগম ক্রোধে-আক্রোশে ওড়না দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে জামায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে জানায় জুলি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877