লিওনেল মেসির ৮৩ মিনিটের গোলে দারুণ প্রত্যাবর্তনের জয় পেয়েছে ইন্টার মায়ামি। রবিবার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে মায়ামি। এই জয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের প্লে-অফে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে দলটি।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মেসি। এটি এবারের লিগে তার ২৬তম গোল। এর আগে ৬৯ মিনিটে জার্মান বেরতেরামের করা সমতাসূচক গোলেও অবদান ছিল আর্জেন্টাইন মহাতারকার। এই জয়ে ৩৩ ম্যাচে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি। এক ম্যাচ বেশি খেলা নিউ ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৫৮।
দুই ম্যাচ জয়হীন থাকার পর এই জয়ে স্বস্তি ফিরেছে মায়ামি শিবিরে। দলের হয়ে দুটি গোলেই সহায়তা করেছেন তেলাস্কো সেগোভিয়া।
ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের গোলে এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকেরা। পেটন মিলারের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে তৈরি হয় গোলের সুযোগ। ডান দিক দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পেনাল্টি অঞ্চলের দিকে বল বাড়ান তিনি। ইলে ফেইনগোল্ডের পেছনের গোড়ালির স্পর্শে বল পেয়ে আট গজ দূর থেকে প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে জালে পাঠান গাজদাগ।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা জোরদার করে মায়ামি। ৬৫ মিনিটে মেসির শট কোনোমতে ঠেকান নিউ ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাট টার্নার। ফিরতি বলে জার্মান বেরতেরামের শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ব্রুকলিন রেইনস।
তবে চার মিনিট পরই সমতায় ফেরে মায়ামি। তেলাস্কো সেগোভিয়ার উঁচু করে বাড়ানো বল দুই রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের মাঝখান থেকে হেড করার চেষ্টা করেন মেসি। তবে সুবিধাজনক অবস্থানে না থাকায় বলটি বাতাসে তুলে দেন তিনি। সেই সুযোগে ছুটে আসেন বেরতেরামে। নিচু শটে টার্নারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে দুই দলই। শেষ পর্যন্ত ৮৩ মিনিটে মেসির জাদুতেই জয় নিশ্চিত হয় মায়ামির। গোলপোস্ট থেকে প্রায় ৩০ গজ দূরে পাওয়া আলগা বল নিয়ে একের পর এক নিউ ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে এগিয়ে যান তিনি। এ সময় সেগোভিয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে আটকে রেখে বলটি আবার মেসির বাঁ পায়ে তুলে দেন। মেসি নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন গোলপোস্টের নিচের বাঁ কোণে।
৮৭ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল নিউ ইংল্যান্ড। তবে ভিডিও পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করেন রেফারি সের্গেই বোইকো। গোলের মুহূর্তে লুকা লাঙ্গোনি অফসাইডে ছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দেন তিনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি হয়নি। ২৮ মিনিটে বেরতেরামের শট সহজেই ঠেকান টার্নার। ৩৭ মিনিটে কাছ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি নিউ ইংল্যান্ডের ব্রুকলিন রেইনস। তার শট চলে যায় ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে।
শেষ পর্যন্ত মেসির নৈপুণ্যে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইন্টার মায়ামি। এক ম্যাচ বাকি থাকতে ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসায় প্লে-অফের বাছাইপর্বেও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেল দলটি।