সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন

দুনিয়া কাঁপানো ১০ সাইবার ডাকাতি

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার

ইথেরিয়ামের ইআইপি-৭৭০২ কোডের ফাঁদ থেকে শুরু করে উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া, চীন ও পশ্চিমা হ্যাকার সিন্ডিকেটের বিলিয়ন ডলারের লুটপাট- কীভাবে পাসওয়ার্ড বা চাবি চুরি না করেই অদৃশ্য কোডের ইশারায় ধ্বংস হচ্ছে আধুনিক অর্থনীতির অভেদ্য দুর্গ? ২৯ অক্টোবর ২০২৬, আন্তর্জাতিক মান সময় রাত ৮টা ৫ মিনিট। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স-এর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণকক্ষের পর্দায় হঠাৎই অস্বাভাবিক লেনদেনের লাল সংকেত জ্বলে ওঠে। বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে ৩০ কোটির বেশি নিবন্ধিত গ্রাহক থাকা প্ল্যাটফর্মটির ভল্টে সংরক্ষিত মোট ডিজিটাল সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম নিরাপদ দুর্গ হিসেবে বিবেচিত এই প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা যখন পর্দার সংকেতটির উৎস বোঝার চেষ্টা করছিলেন, ততক্ষণে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দ্রুততম ডিজিটাল ডাকাতির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে।

প্রথম আঘাতটি আসে এক্সআরপি লেজারে। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে বাইন্যান্সের পাঁচটি ওয়ালেট থেকে ২৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার এক্সআরপি টোকেন স্থানান্তরিত হয়ে চলে যায় হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রিত একটি একক ঠিকানায়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘড়ির কাঁটা যখন রাত ৮টা ২৫ মিনিটের ঘর স্পর্শ করে, ততক্ষণে ইথেরিয়াম, বিটকয়েন , ট্রন, এক্সআরপি লেজার, সোলানা, আরবিট্রাম, অপটিমিজম, বেস, অ্যাভালাঞ্চ এবং পলিগন এই ১০টি ভিন্ন ব্লকচেইনে থাকা বাইন্যান্সের ‘হট ওয়ালেট’ থেকে নিঃশব্দে হাওয়া হয়ে যায় প্রায় ৬.৩ থেকে ৬.৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি! প্রথম ঢেউ থামার পর রাত ১১টা ৫ মিনিটে অ্যাভালাঞ্চ ও পলিগন নেটওয়ার্কে আঘাত হানে দ্বিতীয় ঢেউ।

মাত্র ২০ মিনিট! এই বিশ মিনিটের ঝড়ে কোনো মারণাস্ত্রের গুলি ছোড়া হয়নি, কোনো ব্যাংকের ইস্পাতের ভল্ট ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়নি, কিংবা কোনো সশস্ত্র বাহিনী সীমান্ত অতিক্রম করেনি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে কয়েক লাইনের ক্ষতিকর কোড লিখে এন্টার বোতামে চাপ দিয়েই লুট করে নেওয়া হয়েছে এমন এক বিপুল অর্থ, যা বিশ্বের অনেক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের বার্ষিক জাতীয় বাজেট কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চেয়েও বেশি। আধুনিক যুগে কোনো রাষ্ট্র বা বহুজাতিক অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে যে আর আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন নেই, ২৯ অক্টোবরের এই ঘটনা তা আরও একবার নির্মমভাবে প্রমাণ করল। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বিধ্বংসী ১০টি সাইবার হামলা, সেগুলোর নেপথ্যে থাকা বিভিন্ন দেশের হ্যাকার সিন্ডিকেট এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আর্থিক রক্তক্ষরণের ব্যবচ্ছেদ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে- আমরা এক অঘোষিত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভেতর দিয়ে হাঁটছি, যার রণক্ষেত্র সম্পূর্ণ অদৃশ্য। গত কয়েক বছরে সাইবার অপরাধ কেবল কৌতূহলী প্রোগ্রামারদের একক তৎপরতা থেকে বেরিয়ে এসে পরিণত হয়েছে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং ট্রান্সন্যাশনাল মাফিয়া সিন্ডিকেটের বিলিয়ন ডলারের ছায়া যুদ্ধে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০টি সাইবার হামলার বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো। জানাচ্ছেন, শামস বিশ্বাস

বাইন্যান্স : ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলার

হ্যাকার দেশ উত্তর কোরিয়া

ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বৈশ্বিক ফিনটেক ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই ডাকাতির নেপথ্যে রয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিকনিস্যান্স জেনারেল ব্যুরো’ নিয়ন্ত্রিত কুখ্যাত হ্যাকার বাহিনী ‘ল্যাজারাস গ্রুপ’-এর বিশেষ শাখা ‘ট্রেডারট্রেইটর’। ব্লকচেইন গোয়েন্দা সংস্থা টিআরএম ল্যাবস এবং চেইন-অ্যানালাইসিসের ফরেনসিক বিশ্লেষণে উত্তর কোরিয়ার এই এলিট হ্যাকার ইউনিটের ডিজিটাল পদচিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছে।

কীভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করল উত্তর কোরীয় হ্যাকাররা? প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, বাইন্যান্সের একজন ডেভঅপ্স ইঞ্জিনিয়ারের ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে হ্যাকাররা ভেতরের নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার পায়। কিন্তু পরবর্তীতে বাইন্যান্সের কো-সিইও রিচার্ড টেং এবং ই হে নিশ্চিত করেন যে, এটি কেবল একটি ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার সাধারণ ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল অন্তত ৩৬ ঘণ্টা আগে থেকে চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা এক বহুস্তরীয় সাইবার অভিযান। হ্যাকাররা বাইন্যান্সের মূল ‘প্রাইভেট কি’ চুরি করেনি বা এনক্রিপশনও ভাঙেনি। তারা বরং ভেতরের সেই স্বয়ংক্রিয় ‘সার্ভিস কন্টেইনার’ ও সাইনিং অবকাঠামোর দখল নিয়েছিল, যা ওয়ালেটগুলোকে নির্দেশ দেয় কোন লেনদেনে বৈধ ডিজিটাল সই করতে হবে।

সবচেয়ে ভয়ংকর কারিগরি কৌশলটি প্রয়োগ করা হয় ইথেরিয়াম ব্লকচেইনে। ইথেরিয়াম নেটওয়ার্কে সাধারণ ওয়ালেটকে সাময়িকভাবে স্মার্ট কন্ট্রাক্টের ক্ষমতা দেওয়ার জন্য ‘ইআইপি-৭৭০২’ নামের একটি আধুনিক আপগ্রেড চালু করা হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা এই সুবিধাকেই মারণাস্ত্র বানায়। তারা আগে থেকেই ৫০টি ক্রমিক ননস ব্যবহার করে প্রি-সাইনড অথরাইজেশন তৈরি করে রেখেছিল। আক্রমণের মুহূর্তে তারা বাইন্যান্সের প্রধান হট ওয়ালেট বিটকয়েন ১৪-কে মুহূর্তের মধ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় সুইপার কন্ট্রাক্ট-এ রূপান্তর করে ফেলে। এর ঠিক সাড়ে তিন মিনিট পর হ্যাকাররা সুইপ ফাংশন কার্যকর করে। মাত্র একটি ট্রানজেকশনে ওয়ালেটে থাকা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪টি ইথেরিয়াম, ১৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ৬০টিরও বেশি ভিন্ন টোকেন ঝাড়ু দেওয়ার মতো এক ঝটকায় হ্যাকারদের ঝুলিতে চলে যায়।

মাত্র ২০ মিনিটে ১০টি ব্লকচেইন থেকে লুট হয় মোট ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলার- যার মধ্যে ইথেরিয়াম চেইন থেকেই ৩.৭৯ বিলিয়ন ডলার, বিটকয়েন নেটওয়ার্ক থেকে ১৮,২৭০টি বিটকয়েন (১.৪৭ বিলিয়ন ডলার), ট্রন থেকে ৬২৮ মিলিয়ন ডলার এবং এক্সআরপি ও সোলানা থেকে ৩৯২ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হ্যাকারদের ব্যবহৃত টুল ও কোডগুলো সেলফ-ডেস্ট্রাক্ট মেকানিজম বা স্বয়ংক্রিয় ধ্বংসপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের সব ডিজিটাল প্রমাণ মুছে ফেলে।

পরবর্তীতে টিথার এবং সার্কেলসহ ব্লকচেইন পার্টনারদের সহায়তায় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার অন-চেইনে ফ্রিজ বা অচল করে দেওয়া সম্ভব হলেও বাকি ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন ও ইথেরিয়াম হ্যাকাররা নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। গ্রাহকদের বাঁচাতে বাইন্যান্স তাদের নিজস্ব জরুরি তহবিল এবং রিজার্ভ থেকে ৬.৩৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করে শতভাগ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার : ২.৫ বিলিয়ন ডলার

হ্যাকার দেশ : রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র

কেবল ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জই নয়, বাস্তব উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সাইবার আক্রমণটি ঘটে বহুজাতিক অটোমোবাইল জায়ান্ট জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার এবং ব্রিটিশ রিটেইল চেইন মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার-এর ওপর। এই হামলার পেছনে কাজ করেছে রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপভিত্তিক র‌্যানসমওয়্যার অপারেটর ‘ড্রাগনফোর্স’ এবং যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কিশোর-তরুণ হ্যাকারদের কুখ্যাত আন্তর্জাতিক জোট ‘স্ক্যাটারড ল্যাপসাস হান্টার্স’ (Scattered Lapsus$ Hunters)।

হ্যাকাররা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের মূল আইটি ও ম্যানুফ্যাকচারিং সিস্টেম হ্যাক করে অচল করে দেয়। এর ফলে টানা ছয় সপ্তাহ বিশ্বজুড়ে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের গাড়ি উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকে, যার আর্থিক রক্তক্ষরণ গড়ায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত। যুক্তরাজ্যের সাইবার মনিটরিং সেন্টার (CMC) এবং রয়টার্সের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, এই একটি সাইবার হামলায় ব্রিটিশ অর্থনীতির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতি হয়েছে ১.৯ বিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা)।

এই হামলায় যুক্তরাজ্যের ৫ হাজারেরও বেশি যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান (Suppliers) দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়ে। জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের মূল প্রতিষ্ঠান ভারতের টাটা মোটরসকে (Tata Motors) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হিসাবে ৩,৪৮৬ কোটি রুপি নিট লোকসান গুনতে হয়। এমনকি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড তাদের অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে জানায়, এই একটি সাইবার হামলার কারণে যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক জাতীয় প্রবৃদ্ধি (GDP) ০.১৭ শতাংশ কমে গেছে! একই হ্যাকার চক্রের হামলায় ব্রিটিশ রিটেইল জায়ান্ট মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার দুই মাস তাদের অনলাইন অর্ডার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়, যাতে তাদের ক্ষতি হয় আরও ৩০ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৩৯০ মিলিয়ন ডলার)।

বাইবিট এক্সচেঞ্জ : ১.৫ বিলিয়ন ডলার

হ্যাকার দেশ : উত্তর কোরিয়া

২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর বাইন্যান্স হ্যাক হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্রিপ্টো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরির রেকর্ডটি ছিল দুবাইভিত্তিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিট এর। ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত এই হামলার পেছনেও ছিল উত্তর কোরিয়ার ল্যাজারাস গ্রুপের ট্রেডারট্রেইটর ইউনিট, যা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।

বাইবিটের ঘটনায় হ্যাকাররা অত্যন্ত চতুর সাপ্লাই-চেইন ইউআই স্পুফিং’ কৌশল ব্যবহার করেছিল। বাইবিট তাদের একটি অফলাইন মাল্টি-সিগনেচার কোল্ড ওয়ালেট থেকে দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য ওয়ার্ম ওয়ালেটে’ ইথেরিয়াম স্থানান্তর করছিল। উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বাইবিটের নিজস্ব সার্ভার হ্যাক না করে, তারা যে থার্ড-পার্টি ওয়ালেট সফটওয়্যার ব্যবহার করত, সেটির একজন ডেভেলপারের কম্পিউটার হ্যাক করে মূল জাভাস্ক্রিপ্ট কোডে ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেয়।

ফলে বাইবিটের প্রধান নির্বাহী বেন ঝোউ এবং অন্য কর্মকর্তারা যখন লেনদেনে ডিজিটাল সই করছিলেন, তখন কম্পিউটারের পর্দায় সঠিক ও বৈধ ঠিকানাই দেখাচ্ছিল। কিন্তু পর্দার আড়ালে সেই সইটির মাধ্যমে স্মার্ট কন্ট্রাক্টের লজিক বদলে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে ৪ লাখের বেশি ইথেরিয়াম- যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ১.৪৬ থেকে ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হ্যাকারদের ওয়ালেটে চলে যায়। উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা পরবর্তীতে থরচেইন এবং বিভিন্ন ক্রস-চেইন ব্রিজ ব্যবহার করে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই পুরো অর্থ বিটকয়েনে রূপান্তর করে ধাপে ধাপে সরিয়ে নেয়।

চেঞ্জ হেলথকেয়ার : ৩.৫ বিলিয়ন ডলার

হ্যাকার দেশ : রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া এই সাইবার হামলা চালিয়েছিল রাশিয়াভিত্তিক কুখ্যাত র‌্যানসমওয়্যার সিন্ডিকেট আলফভি বা ব্ল্যাকক্যাট। রুশ ভাষাভাষী এই সাইবার অপরাধী চক্রটি মূলত র‌্যানসমওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস মডেলে কাজ করে।

ইউনাইটেডহেলথ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ হেলথকেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের মোট চিকিৎসা বিলের অর্ধেক এবং এক-তৃতীয়াংশ মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে। রুশ হ্যাকাররা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন না থাকা একটি পুরনো সিট্রিক্স পোর্টালের লগ-ইন তথ্য ব্যবহার করে ভেতরে ঢোকে এবং পুরো সিস্টেম লক করে দেয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার ফার্মেসি, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ওষুধ সরবরাহ এবং বীমা পেমেন্ট সিস্টেম সপ্তাহব্যাপী অচল হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কোম্পানিটি হ্যাকারদের ২ কোটি ২০ লাখ ডলার (২২ মিলিয়ন ডলার) বিটকয়েনে মুক্তিপণ দেয়। কিন্তু মুক্তিপণ দেওয়ার পরও হ্যাকারদের সহযোগী আরেকটি গ্রুপ পুনরায় টাকা দাবি করে এবং ১৯ কোটি মানুষের সংবেদনশীল চিকিৎসা তথ্য ফাঁসের হুমকি দেয়। সিস্টেম পুনরুদ্ধার, হাসপাতালগুলোকে জরুরি ঋণ সহায়তা এবং আইনি জরিমানা মিলিয়ে ২০২৫ সাল নাগাদ ইউনাইটেডহেলথ গ্রুপের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২.৮৭ বিলিয়ন থেকে ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

বিটগেট এক্সচেঞ্জ : ৩৮৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি

হ্যাকার দেশ : উত্তর কোরিয়া

বাইন্যান্সে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার লুটের মাত্র এক মাস আগে, ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর আরেক শীর্ষ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিটগেট-এ আঘাত হানে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার বাহিনী। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিটগেটের এই হ্যাকিংটিই ছিল মূলত ২৯ অক্টোবরের বাইন্যান্স হ্যাকের চূড়ান্ত মহড়া। বিটগেটের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা একটি থার্ড-পার্টি সিকিউরিটি সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ক্রেডেনশিয়াল বা প্রবেশাধিকার চুরি করে। এরপর ঠিক বাইন্যান্সের মতোই তারা কোনো প্রাইভেট কি চুরি না করে বিটগেটের নিজস্ব সিস্টেমকে দিয়েই ভুয়া উইথড্রয়াল ট্রানজেকশন বা অর্থ উত্তোলনের নির্দেশনা সই করিয়ে নেয়। এক ঝটকায় লুট হয়ে যায় ৩৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এর পাশাপাশি ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে হার্ডওয়্যার ওয়ালেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিস্টোন-এর সিস্টেমেও সাইবার হামলা হয়, যেখানে ২৬ হাজার গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য এবং ওয়ালেটের নিরাপত্তা যাচাইকারী ‘ভেরিফিকেশন কি’ চুরি হয়। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২৬-এর এই ধারাবাহিক আক্রমণগুলো বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টো অবকাঠামোর ভঙ্গুরতাকে নগ্নভাবে সামনে নিয়ে আসে।

সিডিকে গ্লোবাল : ১ বিলিয়ন ডলার

হ্যাকার দেশ : রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ

উত্তর আমেরিকার গাড়ি বিক্রির পুরো বাজারকে এক ঝটকায় প্রাগৈতিহাসিক যুগে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপভিত্তিক র‌্যানসমওয়্যার গ্রুপ ব্ল্যাকসুইট যারা মূলত কুখ্যাত রুশ হ্যাকার সিন্ডিকেট কন্টি এবং রয়্যাল এর উত্তরসূরি। সিডিকে গ্লোবাল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ হাজারেরও বেশি গাড়ির শোরুম ও ডিলারশিপকে সফটওয়্যার সেবা প্রদান করে। রুশ হ্যাকাররা পরপর দুই দিন সিডিকে গ্লোবালের ডেটা সেন্টারে আক্রমণ চালিয়ে তাদের পুরো নেটওয়ার্ক জিম্মি করে ফেলে। ফলে উত্তর আমেরিকার ১৫ হাজার গাড়ির ডিলারশিপ একযোগে অচল হয়ে পড়ে। গাড়ি বিক্রি, ঋণের হিসাব, যন্ত্রাংশ অর্ডার এবং মেরামতের কাজ সব বন্ধ হয়ে যায়; কর্মীরা বাধ্য হয়ে কাগজে-কলমে হিসাব লিখতে শুরু করেন। তিন সপ্তাহের এই অচলাবস্থায় কেবল যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি ডিলারদেরই সরাসরি ব্যবসায়িক ক্ষতি হয় ১.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১০২ কোটি ডলার)। অচলাবস্থা কাটাতে সিডিকে গ্লোবাল রুশ হ্যাকারদের ৩৮৭টি বিটকয়েন- যার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার মুক্তিপণ হিসেবে পরিশোধ করতে বাধ্য হয়।

ডিএমএম বিটকয়েন ও লিকুইড নেটওয়ার্ক : ৬২৫ মিলিয়ন

হ্যাকার দেশ : উত্তর কোরিয়া

জাপানের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ক্রিপ্টো বাজারে সবচেয়ে বড় বজ্রপাতটি ঘটে যখন টোকিওভিত্তিক এক্সচেঞ্জ ডিএমএম বিটকয়েন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটে লুট হয়ে যায় ৪,৫০২.৯টি বিটকয়েন- যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ৩০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। জাপানের ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই যৌথ তদন্ত শেষে ঘোষণা করে, এই হামলার পেছনেও ছিল উত্তর কোরিয়ার ট্রেডারট্রেইটর হ্যাকার চক্র।

হ্যাকাররা লিংকডইনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জাপানি ওয়ালেট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গিনকো এর একজন প্রকৌশলীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। তাকে একটি পাইথন কোডিং টেস্ট দেওয়ার নামে তার কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সেই প্রকৌশলীর অ্যাক্সেস ব্যবহার করে উত্তর কোরীয় হ্যাকাররা ডিএমএম বিটকয়েনের লেনদেন অনুমোদন ব্যবস্থায় ঢুকে ৩০৫ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয়। এই বিপুল ক্ষতির বোঝা বইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ডিএমএম বিটকয়েন চিরতরে তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিটকয়েন সাইডচেইন লিকুইড নেটওয়াকএ সফটওয়্যার বাগের সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা ভুয়া টোকেনের বিপরীতে ৪,০০০ আসল বিটকয়েন বা ৩২ কোটি ডলার বের করে নেয়। পরে চাপের মুখে ৩,৪০০ বিটকয়েন ফেরত দিলেও ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিটকয়েন হ্যাকারদের পকেটেই থেকে যায়।

মার্কিন টেলিকম ও এশীয় ডেটা ব্রিচ : বিলিয়ন ডলার

হ্যাকার দেশ : চীন

আর্থিক লুটের পাশাপাশি কৌশলগত ও করপোরেট অবকাঠামো ধ্বংসে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত হ্যাকার গোষ্ঠী সল্ট টাইফুন এবং ভোল্ট টাইফুন। চীনা হ্যাকার গ্রুপ ‘সল্ট টাইফুন’ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ টেলিকম কোম্পানি এটিঅ্যান্ডটি, ভেরাইজন এবং লুমেন টেকনোলজিসের মূল নেটওয়ার্কের গভীরে অনুপ্রবেশ করে। তারা কেবল লাখ লাখ গ্রাহকের কল রেকর্ড ও মেটাডেটাই চুরি করেনি, বরং মার্কিন আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোপন আড়িপাতা সিস্টেমেও ঢুকে পড়ে। এই সাইবার অনুপ্রবেশ মোকাবিলা করতে এবং টেলিকম হার্ডওয়্যার ও রাউটার সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে মার্কিন কোম্পানি ও সরকারকে গুনতে হয়েছে বিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা ব্যয়।

এর পাশাপাশি ২০২৬ সালের অক্টোবরে এশিয়ার বিমান পরিবহন জায়ান্ট ক্যাথে প্যাসিফিক এবং জাপানি রিটেইল ব্র্যান্ড মুজি ভয়াবহ সাইবার হামলার শিকার হয়, যেখানে পূর্ব এশীয় হ্যাকার সিন্ডিকেট ২ কোটিরও বেশি গ্রাহকের পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড ও ব্যক্তিগত তথ্য ডার্কওয়েবে ফাঁস করে দেয়।

রনিন নেটওয়ার্ক গেমিং ব্লকচেইন : ৬২৫ মিলিয়ন

হ্যাকার দেশ : উত্তর কোরিয়া

ব্লকচেইন ব্রিজ বা এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে অর্থ স্থানান্তরের প্রযুক্তিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আঘাতটি হেনেছিল উত্তর কোরিয়ার ল্যাজারাস গ্রুপ। জনপ্রিয় ব্লকচেইন গেম অ্যাক্সি ইনফিনিটিএর মূলভিত্তি ছিল এই রনিন নেটওয়ার্ক। এই হামলায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রযুক্তিগত কোড ভাঙার চেয়ে মানুষের মনস্তত্ত্ব বা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকে বেশি কাজে লাগায়। তারা ভুয়া কোম্পানি খুলে রনিন নেটওয়ার্কের মূল প্রতিষ্ঠান ‘স্কাই মেভিস এর একাধিক প্রকৌশলীকে উচ্চ বেতনের চাকরির ইন্টারভিউয়ের আমন্ত্রণ জানায়। কয়েক দফা ইন্টারভিউ নেওয়ার পর একজন সিনিয়র প্রকৌশলীকে পিডিএফ ফাইলে চাকরির অফার লেটার পাঠানো হয়। ওই প্রকৌশলী ফাইলটি ডাউনলোড করার সঙ্গে সঙ্গেই হ্যাকাররা ভেতরের নেটওয়ার্কের দখল পেয়ে যায় এবং ৯টি ভ্যালিডেটর নোডের মধ্যে ৫টির প্রাইভেট কি কবজা করে নেয়। মুহূর্তের মধ্যে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ ইথেরিয়াম এবং ২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। যার মূল্য ছিল ৬২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার লুট হয়ে যায়। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই চুরির ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর টানা ছয় দিন কোম্পানি নিজেই জানত না যে তাদের ভল্ট খালি হয়ে গেছে!

এফটিএক্স এক্সচেঞ্জ : ৪৭৭ মিলিয়ন ডলার

হ্যাকার দেশ : যুক্তরাষ্ট্র

সব বড় ক্রিপ্টো হ্যাকিংয়ের পেছনেই যে কেবল উত্তর কোরিয়া বা রাশিয়া থাকে, তা নয়। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ এফটিএক্স যখন দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করে, ঠিক সেই রাতেই তাদের ওয়ালেট থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায় ৪৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ এই ডাকাতির রহস্য উন্মোচন করে এবং প্রমাণিত হয় যে এর পেছনে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নাগরিকদের নিয়ে গঠিত একটি দুর্র্ধষ সিম-সোয়াপ হ্যাকার চক্র। রবার্ট পাওয়েল (ইলিনয়), কার্টার রন (ইন্ডিয়ানা) ও এমিলি হার্নান্দেজ (কলোরাডো) নামের তিন মার্কিন নাগরিকের নেতৃত্বাধীন এই চক্র যুক্তরাষ্ট্রের মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কর্মীদের ঘুষ দিয়ে ও ভুয়া পরিচয়পত্র দেখিয়ে এফটিএক্স-এর একজন উচ্চপদস্থ কর্মীর মোবাইল সিম কার্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের ফোনে নিয়ে নেয়। এরপর সেই ফোনে আসা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন কোড ব্যবহার করে তারা এফটিএক্স-এর ওয়ালেটে ঢুকে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৪৭৭ মিলিয়ন ডলার লুট করে নেয়। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সাইবার অপরাধীদের দ্বারা সংঘটিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো চুরি।

সাইবার অর্থনীতির অন্ধকার

ওপরের দশটি ঘটনার তালিকাটি মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করলে একটি চমকে ওঠার মতো ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ডিএমএম বিটকয়েন, রনিন নেটওয়ার্ক, বাইবিট, বিটগেটএবং সর্বশেষ বাইন্যান্স হ্যাক এই প্রতিটি মেগা-ডাকাতির পেছনে রয়েছে একক একটি দেশ। উত্তর কোরিয়া। কঠোর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা উত্তর কোরিয়া প্রচলিত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বদলে সাইবার ডাকাতিকে তাদের রাষ্ট্রীয় বাজেটের প্রধান উৎসে পরিণত করেছে। বিশ্বে যত ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়, তার অর্ধেকেরও বেশি এককভাবে লুট করে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা। আরও ভয়ংকর তথ্য হলো, উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির মোট ব্যয়ের প্রায় ৫০ শতাংশই এখন জোগান দিচ্ছে এই ‘ল্যাজারাস’ ও ‘ট্রেডারট্রেইটর’ হ্যাকার বাহিনী!

অন্যদিকে, রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপভিত্তিক হ্যাকার সিন্ডিকেটগুলো পশ্চিমা বিশ্বের হাসপাতাল, গাড়ি কারখানা, জ্বালানি পাইপলাইন ও রিটেইল চেইনগুলোকে জিম্মি করে বিলিয়ন ডলার আদায় করে। চীনের হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো সরাসরি আর্থিক চুরির চেয়ে পশ্চিমা টেলিযোগাযোগ, সামরিক সাপ্লাই চেইন এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্যে দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য বিস্তারে মনোযোগ দিচ্ছে।

লগ ইন

কেন ২০২৬ সালে এসে বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত প্রযুক্তি দুর্গগুলো এভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে? এর তিনটি মৌলিক কারণ তিনটি।

১. দরজা ভাঙার বদলে বৈধ পরিচয়ে লগ-ইন ২. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিপফেক সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

৩. স্মার্ট কন্ট্রাক্ট ও অটোমেশনের অস্ত্রায়ন

ট্রলিয়ন ডলারের রক্তক্ষরণ

বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধের কারণে বার্ষিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এ বছর ১০.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। যদি সাইবার অপরাধ জগতকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করা হতো, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পর এটিই হতো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি!

বাইন্যান্সের কাছে ১৪৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পদ এবং নিজস্ব রিজার্ভ থাকায় তারা হয়তো ৬.৩৪ বিলিয়ন ডলারের এই রক্তক্ষরণ নিজস্ব তহবিল থেকে পূরণ করে টিকে গেল। কিন্তু এই একই আঘাত যদি বিশ্বের অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা মাঝারি আকারের এক্সচেঞ্জের ওপর আসত, তবে তা মুহূর্তেই ২০০৮ সালের চেয়েও ভয়াবহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার জন্ম দিত। বাংলাদেশের মতো উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতির জন্যও এই ঘটনাগুলো এক বিশাল অশনিসংকেত।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ