সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন

আজ থেকে ১৩ সিটিতে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার

১৩টি সিটি করপোরেশন আজ (সোমবার) থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকাকে আটটি অঞ্চলে ভাগ করা হবে। প্রতিটি অঞ্চলের ই-রিকশার জন্য থাকবে আলাদা রঙ। এক অঞ্চলে নিবন্ধিত রিকশা অন্য অঞ্চলে চলতে পারবে না। কোন অঞ্চলে কতটি রিকশা চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ আলোচনা করে নির্ধারণ করবে। আপাতত ই-রিকশাচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তাদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিকভাবে চালকদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ই-রিকশা চলাচলের নতুন বিধিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত ১৩টি সিটি করপোরেশনে বিধিমালাটি কার্যকর হবে। পৌরসভায় এ ব্যবস্থা চালু করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করতে হবে। এরপর অন্যান্য শহরের জন্য বিধিমালা করা হবে। সোমবার (আজ) থেকে ১৩টি সিটি করপোরেশন নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। নতুন বিধিমালায় একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। একজন ব্যক্তি এক বা একাধিক সিটি

করপোরেশন মিলিয়ে মোট পাঁচটি রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন। প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নম্বরপ্লেট দেওয়া হবে। এটি রিকশার দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে। কিউআর কোডে নিবন্ধন নম্বর, মালিক ও চালকের তথ্য, নিবন্ধনকারী সিটি করপোরেশন এবং চলাচলের অঞ্চলের পরিচয় থাকবে। তবে বর্তমানে যারা এসব রিকশা চালাচ্ছেন, তাদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিধিমালা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় চলাচলকারী সব ই-রিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে অবৈধ ই-রিকশা অপসারণ করা হবে। দুই যাত্রীর ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। চার যাত্রীর ই-রিকশার ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ১০ হাজার ও বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। প্রতিবছর ফিটনেস সনদ নিয়ে নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। নম্বরপ্লেটের জন্য নেওয়া হবে এক হাজার টাকা। এসব অর্থ চালকের পরিবর্তে মালিককে পরিশোধ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিবন্ধন পেতে হলে বর্তমানে চলাচলকারী রিকশাগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ চলাচলের অঞ্চল, সড়ক, রঙ ও সংখ্যা চূড়ান্ত করবে। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, নিবন্ধনের তারিখ থেকে একটি ই-রিকশার ব্যবহারযোগ্য মেয়াদ হবে ১২ বছর। মেয়াদ শেষে নম্বরপ্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল হবে। প্রাথমিক নিবন্ধন ফি একবারই দিতে হবে। এরপর প্রতিবছর নবায়ন ফি দিতে হবে। বর্তমানে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলো বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদ- ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নকশা অনুযায়ী কাঠামোগত পরিবর্তন করে অনুমোদন নিতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সনদ লাগবে।

তিনি বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় এই সীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাস চলাচলের প্রধান সড়ক, ফুটপাত এবং প্রশাসনের নিষিদ্ধ করা সড়কে এসব রিকশা চলাচল করতে পারবে না। ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে সিটি করপোরেশন পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ করবে। নিবন্ধন ছাড়া চলাচল, অতিরিক্ত গতি ও যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, অনুমোদন ছাড়া মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত এলাকায় চলাচল অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া যাত্রীর পরিবর্তে মালামাল পরিবহন, ট্রাফিক সংকেত অমান্য ও দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে বসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ঠিক করবে। পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ মানুষের সামর্থ্যরে মধ্যে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। ভাড়া নির্ধারণের আলোচনায় মালিকপক্ষ থাকবে। ভাড়া নির্ধারণে চালকদের ভূমিকা নেই।

ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার কেন্দ্রগুলোও অনুমোদনের আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুতে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে পারবে, এমন কেন্দ্রকে সিটি করপোরেশন অনুমোদন বা ট্রেড লাইসেন্স দেবে। এ ছাড়া চার্জিং স্টেশনে সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিডের বিদ্যুতের সমন্বিত ব্যবস্থা রাখা হবে। এর মাধ্যমে দিনের বেলায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া এবং রাতে গ্রিডের বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা যাবে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চার্জ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি পুরনো বা অকার্যকর ব্যাটারি খোলা জায়গা, মাটি, জলাশয় কিংবা সাধারণ বর্জ্যরে মধ্যে ফেলা বা পোড়ানো যাবে না। নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় বিক্রেতাকে পুরনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠাতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানো যাবে না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ