রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন

নেতানিয়াহুকে হটাতে ইসরায়েলের রাস্তায় হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে দেশটির রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের জোটকে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আহ্বান জানান।

শনিবার তেল আবিবে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে দেশটির বিরোধী দলগুলোর প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ইসরায়েলে প্রকৃত পরিবর্তন আনার জন্য এটিই হতে পারে ‘শেষ সুযোগ’। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কৌশল ও নানা কৌশলী পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে রয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তবে মঙ্গলবারের নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সমর্থন আইজেনকোটের সরকার গঠনের পথ খুলে দিতে পারে।

আল-জাজিরার প্রতিনিধি নুর ওদেহ রামাল্লাহ থেকে জানান, পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া মানুষের প্রত্যাশা, আইজেনকোটসহ ইহুদি-ইসরায়েলি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা তাদের দাবি শুনবেন।

তবে বিক্ষোভের বিপরীতে নেতানিয়াহুর সমর্থকরাও সমাবেশে উপস্থিত হন। তারা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করে স্লোগান দেন। তাদের দাবি, ইসরায়েলে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীদের’ নিয়ে কোনো সরকার গঠন করা উচিত নয়।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন।

দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভোট পড়েছে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেশি। আরব দলগুলোর সঙ্গে আইজেনকোটের জোট হলে ৬৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব।

তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি ইসরায়েলের রাজনীতিতে এখনো বিতর্কিত। নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে ‘ভোট চুরি’ এবং এ কাজে কাতারের অর্থায়ন গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন। তবে কাতার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে অপপ্রচার বলে অভিহিত করেছে।

নুর ওদেহের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের ডানপন্থী মহলে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ব্যাপক ভোটার উপস্থিতিকে ‘নির্বাচনী সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ একে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সঙ্গে তুলনা করছেন।

ওদেহ বলেন, সরকার গঠনে আইজেনকোটের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ভোট ও রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর এখন আক্রমণের মুখে পড়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ