পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে এনজো মারেসকার সামনে যে চ্যালেঞ্জটা অপেক্ষা করছে, সেটি মোটেও সহজ নয়। তবে ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ইতালিয়ান কোচের শুরুটা যেন স্বপ্নের মতোই। ছয় ম্যাচ, ছয় জয়- মারেসকার অধীনে এখনও হারের স্বাদ পায়নি সিটি। বৃহস্পতিবার রাতে কারাবাও কাপের ম্যাচে নরউইচ সিটিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পরের রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েও এমন দাপুটে জয় এসেছে।
নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সমর্থকদের মনে সংশয় থাকাটাই স্বাভাবিক বলে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছিলেন মারেসকা। তবে মাঠের ফলাফল সেই সংশয় ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে। যদিও নরউইচ ছিল চ্যাম্পিয়নশিপের দল এবং ম্যাচটিতে তাদের একাদশেও ছিল বেশ কিছু পরিবর্তন। ফলে এই জয় থেকে সিটির সামর্থ্য সম্পর্কে খুব বেশি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবু দলের নতুন কোচের পরিকল্পনা এবং স্কোয়াড ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
মারেসকা নিজেও ছয় ম্যাচের টানা জয় নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখাতে নারাজ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ছয় ম্যাচ টানা জিতে আমি খুব খুশি। কিন্তু এখন মূল লক্ষ্য পরের ম্যাচ। ছয় ম্যাচ জিতেছি- এটা নিয়ে ভাবছি না। কারণ সেগুলো শেষ হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে আমি ভাবিনি ছয় বা সাত ম্যাচ পর আমরা কোথায় থাকব। ম্যাচ ধরে ধরে এগোচ্ছি। আজ অনেক কারণেই আমরা খুশি। এখন রবিবারের ম্যাচ নিয়ে ভাবা শুরু করতে পারি।’
নরউইচের বিপক্ষে ম্যাচে মারেসকার দল নির্বাচনও ছিল নজরকাড়া। নিয়মিতদের বিশ্রাম দিয়ে তিনি সুযোগ দিয়েছেন বেঞ্চের খেলোয়াড় ও একাডেমির তরুণদের। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন তারাও।
আর্লিং হালান্ডকে বিশ্রাম দেওয়ায় ১৭ বছর বয়সী ফ্লয়েড সাম্বা জায়গা পান একাদশে। অভিষেকেই বাজিমাত করেন এই তরুণ। ম্যাচের মাত্র ২৯ মিনিটে প্রথম গোল করেন তিনি। এরপর এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই নিজের দ্বিতীয় গোলটিও করে ফেলেন সাম্বা। রায়ান শেরকিও শুরু করেছিলেন। তবে ফরাসি তারকাকে মাত্র ৪৫ মিনিট মাঠে রাখেন মারেসকা। ওই সময়টুকুতেই মৌসুমের তৃতীয় গোলটি করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি।মিডফিল্ডে ৩২ বছর বয়সী মাতেও কোভাচিচের পাশে খেলার সুযোগ পান আইয়ুব বুয়াদ্দি। ফলে ইংল্যান্ডে নিজের অভিজ্ঞতা আরও বাড়ানোর সুযোগ পান তরুণ এই ফুটবলার। চোট কাটিয়ে নিকো ও’রিলিকেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরানো হচ্ছে।
গ্রীষ্মে পালমেইরাস থেকে সিটিতে যোগ দেওয়া ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার অ্যালানও পান নিজের প্রথম সুযোগ। অভিষেকেই গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি।
গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে বিশ্রাম দিয়ে জেরোনিমো রুল্লিকেও একাদশে রাখেন মারেসকা। আর বদলি হিসেবে নেমে ১৮ বছর বয়সী রায়ান ম্যাকঅইডু করেন দলের পঞ্চম গোল।
অর্থাৎ নরউইচের বিপক্ষে রাতটি ছিল মূলত সিটির স্কোয়াড খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রমাণের মঞ্চ। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি কিংবা মার্চে চোট ও নিষেধাজ্ঞার কারণে যখন নিয়মিত খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি বাড়বে, তখন এই খেলোয়াড়দের ওপরই ভরসা করতে হবে সিটিকে। সেই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই হয়তো শুরু থেকেই পুরো স্কোয়াডকে প্রস্তুত রাখছেন মারেসকা।