নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসের পর ভোটেকোশি নদীর আকস্মিক বন্যা ও এর প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এখনো ১ হাজার ৯২৪ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলেও জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৪৫ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানিয়েছিল, বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১ হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের সবচেয়ে বেশি উদ্ধার করা হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। সেখানে এখন পর্যন্ত ২৩৩টি মরদেহ পাওয়া গেছে। নাওয়ালপরাসি ইস্টে ১৫৪টি, গোরখায় ৪৬টি, ধাদিংয়ে ৪০টি, নুয়াকোটে ৩৭টি, তানাহুতে ৩০টি, নাওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ২৭টি এবং রাসুয়া জেলায় ১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভয়াবহ বন্যার পর ৩২০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে চীনের ভূখণ্ডে প্রায় ৪০০ ভারতীয় নাগরিক আটকা পড়েছেন।
নেপালের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা এখনো চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধান এবং আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।
গত বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানার পর বহু মানুষ নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে ৮৬ জন নিরাপত্তাকর্মী, ৫১৭ জন বিদেশি পর্যটক এবং ১২৭ জন নেপালি পর্যটক রয়েছেন বলে জানা গেছে।