বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সমকামিতায় অভিযুক্ত ঢাবির দুই শিক্ষার্থী হল থেকে বহিষ্কার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : আলোচনায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, দাবি ট্রাম্পের ঈদে মিলাদুন্নবী কবে, জানা যাবে বৃহস্পতিবার সিলেটে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার অস্ট্রেলিয়ার বাউন্স সামলানোই বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ: শান্ত সালমান শাহ হত্যা মামলা : ডনের জামিন নামঞ্জুর, ভাইকে ‘হত্যার হুমকি’ সাভারে জেএমবির আস্তানার পর এবার মিলল প্রেসার কুকার বোমা হরমুজ নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় বাড়ল তেলের দাম আ. লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার খবরটি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

হরমুজ নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় বাড়ল তেলের দাম

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার

মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

বুধবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ৩টায় অক্টোবর সরবরাহের ব্রেন্ট ফিউচার ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগের সময়ের তুলনায় এই দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে বাজার এখনো পুরোপুরি আশাহীন হয়নি। তবে সমঝোতার ব্যাপারে আস্থা স্পষ্টভাবেই কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই যত দীর্ঘ সময় পার হচ্ছে এবং বিভিন্ন পক্ষের দাবিগুলো যত জটিল হয়ে উঠছে, দ্রুত একটি কার্যকর সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ততই সংশয় বাড়ছে। আগের মাসের আশাবাদ এখন ধীরে ধীরে ঝুঁকিভিত্তিক সতর্ক অবস্থানে পরিণত হচ্ছে।

জাহাজে হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ

এদিকে মঙ্গলবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার অভিযোগ করেছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করেছে ইরানপন্থী হুথিরা। আরব উপদ্বীপ ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলকে বিভক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যও ছিলেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের কোস্টগার্ড।

একই দিন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করা পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়েছে।

জাহাজ চলাচল নিয়ে এসব ঘটনা হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরেই প্রণালিটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী সংকেতের কারণে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

হরমুজে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক নয়

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। কিন্তু ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে কার্যত জলপথটি বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

মেরিটাইম গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মাত্র ১০টি জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অতিক্রম করেছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে জলপথটির কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকটগুলোর একটি তৈরি করেছে।

আলোচনায় অগ্রগতির দাবি, তবু শর্ত নিয়ে বিরোধ

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের আলোচনা ‘অগ্রসর পর্যায়ে’ রয়েছে। দোহা দ্রুততম সময়ে জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তবে তেহরান বলছে, ওমানের সঙ্গে তাদের আলোচনা সরাসরি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে বাস্তবে জলপথটিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের তুলনায় এখনো খুবই কম।

তেল সরবরাহ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট মঙ্গলবার দাবি করেন, হরমুজ থেকে বের হওয়া তেলের সাত দিনের গড় সরবরাহ বেড়ে প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন হয়েছে। তিনি এর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী ও উপসাগরীয় মিত্রদের ‘সমন্বিত প্রচেষ্টাকে’ কৃতিত্ব দেন।

তবে বাজার বিশ্লেষকেরা এই হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। টরন্টোভিত্তিক গবেষক ররি জনস্টনের প্রতিষ্ঠিত তেলবাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কমোডিটি কনটেক্সটের হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ দিয়ে তেল সরবরাহের চলমান গড় সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন হয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ বাজার পূর্বাভাসে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন যুদ্ধের আগের মাত্রার কাছাকাছি ফিরতে ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সংস্থাটি ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে।

৮৫-৯০ ডলারে থাকতে পারে তেলের দাম

সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেলবাজার বিশ্লেষক জুন গো বলেন, হরমুজ প্রণালির উভয় দিক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন শুরু না হওয়া পর্যন্ত ওপেকের তেল উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত থাকবে।

তার মতে, কূটনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির নতুন কোনো ইতিবাচক খবর না আসা পর্যন্ত মৌলিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে সমর্থন পেতে পারে।

ফলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, জাহাজ চলাচল এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতিই এখন বৈশ্বিক তেলের বাজারের দিক নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ