শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

বিশ্ব প্রবীণ দিবস আজ

স্বদেশ ডেস্ক:

দেশে প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় আট শতাংশ হচ্ছেন প্রবীণ। সমাজবিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যে হারে প্রবীণের সংখ্যা বাড়ছে তাতে দেশ অন্যরকম ঝুঁকির মুখে পড়বে। দেশের একটি বড় অংশ হয়ে পড়বে কর্মে অক্ষম। তাদের মতে, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে শিশুদের চেয়ে প্রবীণদের সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে। আর এজন্য এসব প্রবীণের কথা চিন্তা করে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানান ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রবীণ জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। ১৯৭৪ সালে এ দেশের ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৮ জন। এ সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে ১৯৮১ সালে এসে দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৩ হাজার ৩৫৩ জনে। পরবর্তী এক দশকে তা আরো বেড়ে ১৯৯১ সালের লোক গণনায় ৬০ লাখ ৪৫ হাজার ২৩ জনে পৌঁছায়। প্রবীণদের এই সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৫.৪২ শতাংশ ছিল। ২০১১ সালের লোকগণনায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটিতে, যা মোট জনসংখ্যার সাত শতাংশ। বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় আট শতাংশ।

১৯৯৫ সালের ৫৪ কোটি বিশ্ব প্রবীণ জনসংখ্যা ২০২৫ সালে গিয়ে দাঁড়াবে ১২০ কোটি আর ২০৫০ সালে প্রায় ২০০ কোটি। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবীণদের সংখ্যা প্রায় ১.৪০ কোটি। ২০২৫, ২০৫০ ও ২০৬১ সালে এদের সংখ্যা বেড়ে হবে যথাক্রমে প্রায় ২ কোটি, ৪.৫ কোটি ও ৫.৫ কোটি। ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে শিশুদের চেয়ে প্রবীণদের সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী অতি প্রবীণদের বৃদ্ধিহার সবচেয়ে বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকল্যাণ বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সঙ্ঘের মহাসচিব ড. এ এস এম আতীকুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, জনবিজ্ঞানীদের হিসাবে, বিশ্বব্যাপী প্রবীণদের সংখ্যা দ্রুতহারে বাড়ছে। তিনি বলেন, প্রবীণদের অন্যতম প্রয়োজন হচ্ছে চিকিৎসাসেবা ও আর্থিক সহায়তা। তবে তরুণ-প্রবীণদের মূল চাহিদা পুনঃকর্মসংস্থান এবং অতি প্রবীণদের একান্ত প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি যতœ এবং যাতনা প্রশমন সেবা। দেশের সব শ্রেণীর প্রবীণের জন্য অবিলম্বে চালু করা দরকার সার্বজনীন সামাজিক পেনশন ব্যবস্থা। দেশের এমন বাস্তবতায় আজ পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস।

আজ ১ অক্টোবর ২০১৯ জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। বিশ্বজুড়ে ২৯ বারের মতো এবারো যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ঞযব ঔড়ঁৎহবু ঃড় অমব ঊয়ঁধষরঃু বা বয়সের সমতার পথে যাত্রা। প্রতিটি দেশ, সমাজ ও গোটা বিশ্বকে সকল বয়সীর জন্য সমান উপযোগী ও বাসযোগ্য করে তোলার জন্যে জাতিসঙ্ঘের এই উদাত্ত আহ্বান। এসডিজির মূল অঙ্গীকারের আলোকে বয়সের অসাম্য গুঁড়িয়ে দিয়ে ন্যায্য অধিকার আর মর্যাদার ভিত্তিতে সমাজ-সংসারে নাগরিক হিসেবে সবাইকে বসবাসের সমান সুযোগ দিতে হবে। এতে করেই আসবে মানব জাতির টেকসই মঙ্গল ও ভারসাম্যময় উন্নয়ন। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877