শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
২ বছরের সম্পর্কের পর অনন্যা-ওয়াকার বিচ্ছেদ! বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডসে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ইংল্যান্ড ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না : রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ খুলনায় ভাড়া বাসায় মিলল অস্ত্রসহ একাধিক চেকবই, হেফাজতে স্বামী-স্ত্রী-ছেলে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই ও ৪০০ সার্জেন্ট নিয়োগ করা হবে প্রস্তাব পেলে মক্কা প্যাক্টে যোগদানে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

হৃদয়ের গোপন ইচ্ছাও জানেন আল্লাহ

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৬৬ বার

মহান আল্লাহ সবকিছু জানেন। কোনো কিছুই তার কাছে অপ্রকাশ্য নয়। তিনি অন্তর্যামী। মানুষের হৃদয়ের গোপন ইচ্ছা সম্পর্কেও তিনি অবগত। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমার রব জানেন, তাদের অন্তর যা গোপন করে, আর তারা যা প্রকাশ করে।’ (সুরা কাসাস ৬৯)

মানুষের জীবন দুই ভাগে বিভক্ত। একটি প্রকাশ্য, যা সবাই দেখে। অন্যটি অন্তরাল, যা কেবল সে নিজে জানে। মানুষের মুখে এক কথা থাকতে পারে, আর হৃদয়ে লুকিয়ে থাকতে পারে ভিন্ন ইচ্ছা, ভিন্ন বিশ্বাস কিংবা ভিন্ন পরিকল্পনা। কিন্তু মানুষের সেই গোপন জগৎও মহান আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। এই আয়াত আমাদের সেই গভীর সত্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

মহান আল্লাহ শুধু মানুষের কাজই দেখেন না, তিনি কাজের পেছনের উদ্দেশ্যও জানেন। কেউ যদি মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য ইবাদত করে, মুখে ভালো কথা বললেও অন্তরে হিংসা পোষণ করে কিংবা বাইরে সততার পরিচয় দিয়ে গোপনে অসততার পথ অনুসরণ করে, তবে তা মহান আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। কারণ তিনি অন্তরের প্রতিটি ভাবনা, প্রতিটি সংকল্প এবং প্রতিটি অনুভূতির খবর রাখেন।

এই আয়াত মুমিনের অন্তরে আত্মসমালোচনার চেতনা সৃষ্টি করে। মানুষ অনেক সময় মনে করে, কেউ তাকে দেখছে না। তাই গোপনে অন্যায় করতে দ্বিধা করে না। কিন্তু যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে, মহান আল্লাহ তার অন্তরের কথাও জানেন, সে প্রকাশ্যে যেমন সতর্ক থাকে, নির্জনেও তেমনি আল্লাহকে ভয় করে। এটিই তাকওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি চোখের খেয়ানত এবং অন্তর যা গোপন করে, তাও জানেন।’ (সুরা মুমিন ১৯) অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তোমরা অন্তরের কথা গোপন করো অথবা প্রকাশ করো, আল্লাহ তা জানেন।’ (সুরা আলে ইমরান ২৯)

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।’ (সহিহ মুসলিম) এই হাদিস আমাদের শেখায়, বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে অন্তরের বিশুদ্ধতা এবং আন্তরিক আমলই আল্লাহর কাছে অধিক মূল্যবান।

তাই একজন মুসলমানের সবচেয়ে বড় চেষ্টা হওয়া উচিত নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা। হিংসা, অহংকার, লোক দেখানো, বিদ্বেষ ও কপটতার মতো রোগ থেকে হৃদয়কে মুক্ত রাখা এবং প্রতিটি কাজ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা জরুরি। মানুষের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হলেও আল্লাহর জ্ঞান থেকে কিছুই আড়াল করা যায় না।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও প্রবন্ধকার

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ