ঢাকার তুরাগ নদে কথিত ‘ভাসমান ৭ সাত লাশের’ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চলছে জানিয়ে এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক হবার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা জেলা পুলিশ। পাশাপাশি এই ধরনের অপপ্রচারকারী সম্পর্কে যেকোনো তথ্য ঢাকা জেলা পুলিশকে সরবারহ করার অনুরোধ জানানো হয়।
আজ রোববার দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
তিনি জানান, গত ২৬ জুন রাত আনুমানিক সোয়া ১২টায় আশুলিয়া থানা পুলিশ স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় আশুলিয়া থানাধীন গরুহাটা ঘাট সংলগ্ন তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা সুমনের (১৭) মরদেহ উদ্ধার করে।
এসপি আরও জানান, ২২ জুন দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে ২০/২২ জন বন্ধুসহ সুমন তুরাগ নদে নৌকার ভ্রমণের উদ্দেশে ধৌর ব্রিজ ঘাট এলাকায় নৌকায় উঠেন। সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়া গ্রামের আশুলিয়া গরুর হাট ঘাটে তাড়াহুড়া করে নৌকা থেকে নামতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় স্রোতের সঙ্গে নদীতে তলিয়ে যান। এ ছাড়াও মিরপুরের মোল্লাপাড়া মনিপুর এলাকার বাসিন্দা রনি (৩৫) গত ২৪ জুন রয়েল সিটি খেয়াঘাটে তুরাগ নদে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়। প্রায় ৩০ মিনিট পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ ও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির অপপ্রয়াসে এসব ঘটনায় রাজনৈতিক রঙ ছড়িয়ে বিভ্রান্তমূলক অপপ্রচার চালানো হয় বলেও জানান এই পুলিশ সুপার।
অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘গত তিন মাসে ঢাকা জেলায় ১৭০ টি অপমৃত্যুর মামলার রুজু হয়েছে। যার অধিকাংশই অজ্ঞাতনামা মরদেহ সংক্রান্ত ঘটনা।’
জনসাধারণকে এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা জেলা পুলিশ। পাশাপাশি এই ধরনের অপপ্রচারকারী সম্পর্কে যেকোনো তথ্য ঢাকা জেলা পুলিশকে সরবারহ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আরাফাতুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুনাদির ইসলাম চৌধুরী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহিদুল ইসলাম খান প্রমুখ।